নিজস্ব প্রতিবেদক
একজন বিএনপি নেতাকে অভিনন্দন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দাপ্তরিক প্যাডে দেওয়া একটি বার্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত অফিসিয়াল প্যাডে রাজনৈতিক দলের নেতাকে অভিনন্দন জানানোর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা চলছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতার কোনো পদ বা দায়িত্বে আসাকে কেন্দ্র করে উপাচার্যের পক্ষ থেকে ওই অভিনন্দন বার্তা দেওয়া হয়। বার্তাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দাপ্তরিক প্যাডে লেখা এবং তাতে উপাচার্যের নাম ও পদবি উল্লেখ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক প্রধানের দাপ্তরিক প্যাডে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকে অভিনন্দন জানানোর ঘটনা স্বাভাবিক দাপ্তরিক সৌজন্যের আওতায় পড়ে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে।
তবে অভিনন্দন বার্তাটি কোন প্রেক্ষাপটে, কী কারণে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, উপাচার্যের দাপ্তরিক প্যাড সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক যোগাযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক চিঠিপত্র এবং আনুষ্ঠানিক বার্তার কাজে ব্যবহৃত হয়। ফলে এ ধরনের প্যাডে রাজনৈতিক ব্যক্তিকে অভিনন্দন জানানোর ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান ও ব্যক্তিগত সৌজন্যের সীমারেখা স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।
এর আগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক পরিচয়সম্পন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের যোগাযোগ নিয়ে নানা সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও দাপ্তরিক আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন