সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব নির্বাচন ৩ অক্টোবর ২০২৬ইং সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় জামকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ ২০ বছর পর গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। আসন্ন নির্বাচনে ১৭টি পদের বিপরীতে মোট ৪৭টি মনোনয়নপত্র গ্রহণ করছিলেন প্রার্থীরা। তার মধ্যে গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবে ৮৪ জন যারা ভোটার হয়েছেন বেশির ভাগ জামায়াত আর বিএনপির নেতাকর্মী, তার মধ্যে সাংবাদিক হাতে গণা ১০ থেকে ১২ জন। বাকিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক বলয়কে শক্তিশালি করে সদস্য পদ নিয়েছেন। ৩ অক্টোবর ২০২৬ইং (শনিবার) প্রেসক্লাব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বেশির ভাগ বিএনপির ও জামায়াতের সিলেট জেলার নেতৃবৃন্দ ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। বিশ^স্থ সূত্রে জানা যায়, ২ অক্টোবর রাত ৩টা পর্যন্ত এক শ^াসরোধ্য কর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন কমিশন ও বিএনপি, জামায়াত নেতাদের নিয়ে জিবি টেলিভিশন কার্যালয়ে। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আই ওয়াশ নির্বাচন দেখানো হয় প্রেসক্লাবের অন্যান্যদের সদস্যদের জনসম্মুখে।
যে পদে যারা লড়ছিলেন তার মধ্যে সভাপতি রয়েছেন ৪ জন তারা হলেন -আবুল কাশেম রুমন, এনামুল হক এনাম, সৈয়দ জেলওয়ার হোসেন স্বপন,মাহফুজ আহমদ চৌধুরী।
অন্যান্যপদে যারা লড়ছিলেন তারা হলেন,সিনিয়র সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান খান,এম.জি মোস্তফা,জহুরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি,আব্দুল খালিক, বদরুল আলম,সাধারণ সম্পাদক, ইমরান আহমদ, মাহবুবুর রহমান চৌধুরী,সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ বাবর,জাহিদ উদ্দিন,সাকিব আল মামুন, কোষাধ্যক্ষ আনোয়ার হুমায়ুন, দেলোয়ার হোসেন মাহমুদ, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক, মো. তামিম আহমদ, মোহাম্মদ সাজু মিয়া, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ফাহাদ হোসাইন,রুহুল আমিন, প্রচার সম্পাদক জালাল আহমদ চৌধুরী,ফাহিম আহমদ, মোহাম্মদ জাকির আহমদ, প্রকাশনা সম্পাদক সাইম ইবনে আব্বাস, শাকেল উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক ওলিউর রহমান তামিম,রুবেল আহমদ তালুকদার, রিমন আহমদ,তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক জাবের আহমদ, সামিল হোসেন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক জাবেদ মাহবুব,ফারহান ইসলাম রাজু,হাফিজুল ইসলাম,হাবিবুর রহমান,সালমান কাদের দিপু, কার্যকরী সদস্য-এম.আব্দুল জলিল, আব্দুল্লা আহমদ, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, বাবর জোয়ারদার,আরিফ আহমদ জিলু,জাবেদ আহমদ,মাহদী রহমান, মোহাম্মদ জাবের আহমদ, দীনেশ দেব নাথ, ফখরুল ইসলাম, মীর কাওছার আহমদ।
এদের মধ্যে যারা বিজয়ী হয়েছেন যারা তারা হলেন বিএনপি মনোনিত সভাপতি পদে এনামুল হক এনাম ৪১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজ আহমদ চৌধুরী পান ৩১ ভোট।
সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে বিএনপির প্রার্থী আজিজুর রহমান খান ৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জহুরুল ইসলাম পান ২৩ ভোট। জামায়াত সহ-সভাপতি পদে বদরুল আলম ৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তাঁর নিকটতম বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল খালিক পান ৩৩ ভোট।
জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক পদে মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ইমরান আহমদ পান ৩৯ ভোট। বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল আজিজ বাবর ৩৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, জামায়াতের সাকিব আল মামুন পান ৩১ ভোট।
কোষাধ্যক্ষ পদে আনোয়ার হুমায়ুন ৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলওয়ার হোসেন মাহমুদ পান ৩৭ ভোট।
এ ছাড়া ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক পদে মো. তামিম আহমদ ৪০ ভোট, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে ফাহাদ হোসাইন ৪৪ ভোট, প্রচার সম্পাদক পদে ফাহিম আহমদ ৩৪ ভোট, প্রকাশনা সম্পাদক পদে সাকেল উদ্দিন ৪১ ভোট, দপ্তর সম্পাদক পদে ওলিউর রহমান তামিম ৩৭ ভোট, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে সামিল হোসেন ৪৭ ভোট এবং প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক পদে সালমান কাদের দিপু ৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি এক সময় আওয়ামীলীগ রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন বর্তমানে বিএনপির ছত্রছায়ায়।
কার্যনির্বাহী সদস্য পদে জামায়াতের মোহাম্মদ জাবের আহমদ ৪৬ ভোট, বিএনপির বাবর জোয়ারদার ৪৫ ভোট, মাহদী রহমান ৩৮ ভোট এবং জামায়াতের এম. আব্দুল জলিল ৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। পরিসংখ্যানা দেখা যায় যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা বেশির ভাগ বড় দুই দলের মেরুকরণ সাথে জড়িত।

✍️ মন্তব্য লিখুন