নিজস্ব প্রতিবেদক
রংপুর, ২২ এপ্রিল ২০২৬
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারী সবার জন্য প্রকাশ্য রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কার্যকর নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর নেতাকর্মীরা নিয়মিত কর্মসূচি পালন করছেন। এসব কর্মসূচিতে প্রশাসনের কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তির উপস্থিতিও দেখা গেছে, যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয়তাবাদী ফোরামের একটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী। ওই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদে উত্তেজনা তৈরি হয়।
এর আগে ৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আয়োজিত ইফতার মাহফিলেও উপাচার্যসহ প্রশাসনের কয়েকজনকে অংশ নিতে দেখা যায়। ওই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের যানবাহন ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
এদিকে সম্প্রতি (১৮ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে নববর্ষ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী প্রকাশনা উৎসব আয়োজন করে। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও কোনো পক্ষের বিরুদ্ধেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে করে ক্যাম্পাসে আবারও পূর্বের মতো রাজনৈতিক অস্থিরতা ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী রিশাদ নুর বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। অতীতে রাজনৈতিক সহিংসতার অভিজ্ঞতা থেকেই তারা রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছিলেন। এখন কিছু গোষ্ঠী ব্যক্তিস্বার্থে সেই পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে চায়।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, কোনো একটি সংগঠনের অপকর্মের দায়ে পুরো ক্যাম্পাসে রাজনীতি বন্ধ রাখা যৌক্তিক নয়। তিনি ‘গঠনমূলক ছাত্ররাজনীতি’ চালুর পক্ষে মত দেন।
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, যদি নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে তা সব পক্ষের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে। প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান জানান, পূর্বে কিছু কর্মসূচি ‘মানবিক কারণে’ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি, তবে ভবিষ্যতে আর এমন সুযোগ দেওয়া হবে না।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী বলেন, ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধই রয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কঠোরতা না থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। শিক্ষার্থীদের আস্থা ফেরাতে স্বচ্ছ ও সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।
✍️ মন্তব্য লিখুন