নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২২ এপ্রিল ২০২৬
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর উদ্যোগে এবং এডুমেক্স কনসালটেন্সি-এর আয়োজনে রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা ও সেমিনার’। বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মূল সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিজ্ঞান অনুষদ মাঠে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মেলার প্রথম দিনের কার্যক্রম চলে। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিভিন্ন শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
সেমিনারে বিদেশে পড়াশোনার প্রস্তুতি, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, আবেদন প্রক্রিয়া, স্কলারশিপ সুযোগ এবং ভিসা-সংক্রান্ত নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর লেকচারার মো. জাহিদুল ইসলাম মিয়াজী এবং প্রধান আলোচক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের একটি মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সেখান থেকে নির্বাচিত ৩০০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে আইইএলটিএস কোর্স বিনামূল্যে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে নিবন্ধনের জন্য ২ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে, যা নির্ধারিত শর্ত—৯০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিতি এবং মক টেস্টে ন্যূনতম ৬ স্কোর অর্জন—পূরণ করলে ফেরত দেওয়া হবে।
প্রধান আলোচক ড. ইমরানুল হক তার বক্তব্যে বলেন, লক্ষ্য নির্ধারণই সফলতার প্রথম ধাপ। বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও পরিকল্পনা ও সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা অতিক্রম করা সম্ভব। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করে।
এ বিষয়ে জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইবরাহীম খলিল জানান, শিক্ষা মেলার মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে তারা একই স্থানে কাউন্সেলিং, অন-স্পট অ্যাসেসমেন্ট, ভাষা পরীক্ষার সহায়তা এবং ভিসা নির্দেশনা পেতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার আগ্রহ বাড়ায় এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য সময়োপযোগী সহায়তা হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে সঠিক তথ্য ও দিকনির্দেশনা পেলে শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নিতে পারবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন