ঢাকা, ২২ এপ্রিল ২০২৬: দেশের প্রাথমিক শিক্ষাখাতে প্রায় ৫২ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ ও চাকরি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার পেছনের কারণ তুলে ধরেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ অনুষ্ঠিত ‘শিক্ষা বাজেট: বাজেটের শিক্ষা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গণসাক্ষরতা অভিযান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, চলমান বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে। তিনি বলেন, একাধিক মামলার কারণে ৬ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক এবং আরেকটি মামলার কারণে ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের (হেডমাস্টার) নিয়োগ ঝুলে রয়েছে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নেওয়া নতুন প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ পরীক্ষাও এখনো পুরোপুরি যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়ায় তাদের চূড়ান্তভাবে কাজে যোগদান করানো সম্ভব হচ্ছে না।
ববি হাজ্জাজ বলেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে আমাদের পূর্ণাঙ্গ যাচাই (ফুল ভেরিফিকেশন) প্রয়োজন। শুধু নিয়োগ দিলেই হবে না, শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা (স্কিল) উন্নয়নও নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য বিদ্যমান নীতিমালায় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এ কারণে একটি সমন্বিত ও আধুনিক নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, “শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই হবে না, দেশের চার লাখের বেশি প্রাথমিক শিক্ষককে সেই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে হবে। সবাইকে সঙ্গে না নিলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।”
প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ—শিক্ষক, প্রশাসন ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের—সহযোগিতা কামনা করে বলেন, টেকসই সমাধানের জন্য একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও মামলাজট দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। দ্রুত সমাধান না হলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন