নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬
দেশের পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ১৯৮০ সালে প্রণীত আইন বর্তমান সময়ের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাই সেটি সংস্কারের চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে কচুয়া উপজেলা-এ জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইলচেয়ার প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পুরোনো আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোর জন্য যে আইন কার্যকর রয়েছে তা প্রণয়ন করা হয়েছিল ১৯৮০ সালে। সেই সময়ের বাস্তবতায় তৈরি হওয়া আইন বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার নানা পরিবর্তনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই আইনটিকে সময়োপযোগী করতে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, চলতি সংসদ অধিবেশনে আইনটি সংশোধন করা সম্ভব হবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ আগামী ২১ এপ্রিল শুরু হতে যাচ্ছে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা ও সমমানের পরীক্ষা। তাই নতুন আইন কার্যকর হওয়ার আগে বিদ্যমান আইন অনুসারেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
মন্ত্রী বলেন, “আইন পরিবর্তনের আগে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষাগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হবে। পরে আইন সংস্কারের বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হবে।”
নকল প্রতিরোধে আইন কার্যকর
শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিদ্যমান আইন ব্যবহার করেই পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে ইতিমধ্যে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে আইনটির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
তিনি স্মরণ করেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে পাবলিক পরীক্ষা আইন প্রণয়ন করেছিলেন। বর্তমান বাস্তবতায় সেই আইনকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করার প্রয়োজন রয়েছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান
এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, অনেক সময় একসঙ্গে অনেক সাংবাদিক পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীদের লেখালেখিতে বিঘ্ন ঘটে। তাই এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ম্যানেজিং কমিটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল নয়
এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার প্রশ্নই ওঠে না বলেও স্পষ্ট করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, কমিটিতে অর্ধশিক্ষিত লোকজন নয়, বরং শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী দাবি করেন, অর্ধশিক্ষিত ব্যক্তিদের দিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের যে তথ্য প্রচার হয়েছে তা অসম্পূর্ণ ও বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন