০৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪০ PM | জাতীয় ডেস্ক
বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার শর্ত বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শীর্ষ পদে তুলনামূলকভাবে জুনিয়র শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে মাঠপর্যায়ে তৈরি হওয়া অস্বস্তি ও সম্ভাব্য প্রশাসনিক জটিলতার আশঙ্কা থেকেই এ চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে নির্ধারিত ১২ বছর ও ১৫ বছরের শিক্ষকতা অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ শিক্ষক আবেদন করছেন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো ফল করায় অনেক ক্ষেত্রে তারা সিনিয়র শিক্ষকদের ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। ফলে শীর্ষ প্রশাসনিক পদে তুলনামূলকভাবে কম অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সিনিয়র শিক্ষকদের বাদ দিয়ে জুনিয়র শিক্ষকরা প্রধান বা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেলে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কম বয়সী প্রধানের অধীনে প্রবীণ শিক্ষকদের কাজ করতে বিব্রতবোধ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা কিংবা অনানুষ্ঠানিক দ্বন্দ্ব—এসব পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞতার শর্ত পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।”
শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি মনে করছেন, প্রতিষ্ঠানপ্রধানের দায়িত্ব কেবল একাডেমিক নয়; আর্থিক ব্যবস্থাপনা, জনবল সমন্বয়, অভিভাবক-শিক্ষার্থী যোগাযোগ এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন—সব মিলিয়ে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক দায়িত্ব। তাই পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণ থাকা জরুরি।
তবে তরুণ শিক্ষকদের একটি অংশ বলছেন, শুধু বয়স বা চাকরির মেয়াদ নয়, দক্ষতা ও যোগ্যতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাদের মতে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই হলে প্রতিষ্ঠান উপকৃত হবে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা স্পষ্ট নীতিমালা আকারে প্রকাশ করা প্রয়োজন, যাতে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অসন্তোষ না তৈরি হয়।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে প্রজ্ঞাপন জারি করে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন