অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩২, ২ মার্চ ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম The Express Tribune–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ।
সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয় করাচিতে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট ঘিরে হাজারো বিক্ষোভকারী জড়ো হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে একাংশ বিক্ষোভকারী কনস্যুলেটের নিরাপত্তা বলয় ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এ সময় শহরের বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
সহিংসতা করাচির বাইরে উত্তরাঞ্চলীয় শহর স্কারদুতেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বিক্ষুব্ধ জনতা একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে বলে জানা গেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রের বরাতে গণমাধ্যম জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজধানী ইসলামাবাদেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী উচ্চ নিরাপত্তা বলয় ‘রেড জোন’-এর দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এ ঘটনায় আরও দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে লাহোর ও পেশোয়ারসহ বড় শহরগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক স্থাপনা ও সরকারি ভবনের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার এবং ইসলামাবাদ প্রশাসন জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এর ফলে জনসমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে হামলার ঘটনায় তার নিহত হওয়ার দাবি করা হলেও বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যুর খবর ঘিরে মুসলিম বিশ্বে আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন