
ইয়ানূর রহমান : বেনাপোল স্থলবন্দরের কাস্টমস, বন্দর ও ব্যবসায়ীদের জড়িয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিত, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার সময় বেনাপোল রহমান চেম্বারের সানরুফ কনফারেন্স রুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বেনাপোল ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্টার এন্ড এক্সপোর্টার এসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বেনাপোল দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর, যেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। এ বন্দর থেকে প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অতীতে বন্দরে কিছু অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে কাস্টমস ও বন্দরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কার্যকর হস্তক্ষেপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অনেকাংশে ফিরে এসেছে।
তবে বক্তারা অভিযোগ করেন, বন্দরের ভেতর ও বাইরে সক্রিয় কিছু বহিরাগত চাঁদাবাজের কারণে বর্তমানে কাস্টমস কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নামসর্বস্ব পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাস্টমস, বন্দর ও ব্যবসায়ীদের জড়িয়ে মনগড়া ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। এর ফলে অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোল বন্দর ছেড়ে ভোমরা বা অন্যান্য বন্দরে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা এবং সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব।
সংবাদ সম্মেলনে বিশেষভাবে সুমন হোসাইন ও সুন্দর সাহা নামের দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়। বন্দরের শেড ইনচার্জসহ বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করেন তারা। ব্যবসায়ী ও বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সুমন দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল বন্দরে পাসপোর্ট দালালি, লাগেজ পারাপার ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কোনো ধরনের বৈধ অনুমতি ছাড়াই তিনি বন্দরের অভ্যন্তরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের দ্রুত ভারতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা আদায় করতেন। পাশাপাশি শেড ইনচার্জসহ বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) শাহিদা শারমিন ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১০ সেপ্টেম্বর অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল চার্জশিট দাখিল করে। তবে চার্জশিট দাখিলের পরও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।
বক্তারা আরও জানান, এর আগেও সুমন বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর প্রচারণা চালানো এবং একবার তৎকালীন বন্দর চেয়ারম্যানকে গেস্টহাউসে অবরুদ্ধ করে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হন। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে তাকে বন্দর ও কাস্টম হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে সুমন বেনাপোলে অবস্থান না করলেও বাইরে থেকে মানবকণ্ঠ, সকালের সময়, ওয়ান নিউজ বিডি ও জনতার কথা পত্রিকার নাম ব্যবহার করে ফোনে হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলে বলেন, নিষেধাজ্ঞা, মামলা ও চার্জশিট থাকার পরও কীভাবে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে? অবিলম্বে এসব চাঁদাবাজ ও মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
তবে, অভিযুক্ত সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, বেনাপোল স্থলবন্দরের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে সবাই ধোয়া তুলশি পাতা না। একশ্রেণীর কর্মকর্তারা অবৈধ ব্যবসা করা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সরকারের বিপুল পরিমাণের রাজস্ব আহরণে বাঁধা সৃষ্টি করেছে। এছাড়া বৈধপন্থায় ব্যবসা করা ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ফাইল আটকিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে। যার সত্যতা যাচাইয়ে তাদের কাছে ফোন দেওয়া হয় এবং পত্রিকায় সঠিক সংবাদ প্রকাশের জেরে তাদের মুখোশ উম্মোচন হওয়ার প্রতিফলন এই সংবাদ সম্মেলন। #
✍️ মন্তব্য লিখুন