মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। ভারতের আসামের Numaligarh Refinery Limited থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের Parbatipur Railhead Oil Depot-এ ৫ হাজার টন ডিজেল পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধও বিবেচনা করছে ভারত।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আওতাধীন তিন বিপণন কোম্পানি—Padma Oil Company Limited, Meghna Petroleum Limited এবং Jamuna Oil Company Limited—এর পার্বতীপুর রেলওয়ে অয়েল হেড ডিপোর ইনচার্জ মো. আহসান হাবিব জানান, বুধবার বিকেল ৩টার মধ্যে পাইপলাইনের মাধ্যমে আসা ৫ হাজার টন ডিজেল ডিপোর সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে এসব কোম্পানির মজুত মিলে প্রায় এক কোটি লিটার ডিজেল রয়েছে। তাই আপাতত জ্বালানির কোনো সংকট নেই। আগামী ১৬ মার্চ আরও ৫ হাজার টন ডিজেল পার্বতীপুরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বছরে আমদানি ১ লাখ ৮০ হাজার টন
বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালে ভারত থেকে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করতে পারবে বাংলাদেশ। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। চলমান সরবরাহ সেই চুক্তির অংশ হিসেবেই এসেছে।
তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী চার মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত আরও ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এই প্রস্তাব ভারতের কাছে পাঠিয়েছে।
ভারতের বিবেচনায় বাংলাদেশের অনুরোধ
বাংলাদেশের অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ প্রসঙ্গে নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Randhir Jaiswal বলেন, ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোতে বড় আকারে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানি করে থাকে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ করেছে এবং বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। একই ধরনের অনুরোধ করেছে Sri Lanka ও Maldives।
মুখপাত্র আরও বলেন, দুই দেশের সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সাল থেকে সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে নুমালিগড় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে বিপিসি ও নুমালিগড় রিফাইনারির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভিত্তিতেই এই সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
সরবরাহের পরিসংখ্যান
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ হয়েছে—
২০২৩ সালে: ৩৫,৭১৮ টন
২০২৪ সালে: ২৮,২০৪ টন
২০২৫ সালে: ১,২৪,২১৬ টন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করলে পরিবহন খরচ কমে এবং দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
(তথ্যসূত্র: পার্বতীপুর, দিনাজপুর প্রতিনিধি)
✍️ মন্তব্য লিখুন