অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০২৬
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের নির্ধারিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসের তালিকাই বহাল রেখেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার। নতুন করে প্রকাশিত তালিকায় আগে বাতিল হওয়া কয়েকটি দিবস পুনর্বহাল করা হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ এবং ১৫ আগস্ট-সংক্রান্ত দিবস।
বুধবার (১১ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়, দেশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে মোট ৮৯টি দিন পালন করা হবে। এগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’।
‘ক’ শ্রেণি: ১৭টি দিবস (রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন)
‘খ’ শ্রেণি: ৩৭টি দিবস
‘গ’ শ্রেণি: ৩৫টি দিবস
৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’
নতুন তালিকায় ৫ আগস্ট দিনটি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে বহাল রাখা হয়েছে। ২০২৪ সালে ওই দিন গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
এ ছাড়া আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত ছাত্র আবু সাঈদ–এর মৃত্যুর দিন ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্তও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত প্রথম নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ১৭টি দিবস
পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘ক’ শ্রেণির ১৭টি জাতীয় দিবস রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উদযাপন করা হবে। অন্যদিকে ‘খ’ শ্রেণির ৩৭টি দিবস এমনভাবে পালন করা হবে, যেগুলো ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বা পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে সহায়ক। এসব অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা অংশ নেবেন এবং গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।
এসব আয়োজনের জন্য সরকারি তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে।
সীমিত পরিসরে ‘গ’ শ্রেণির দিবস
‘গ’ শ্রেণির ৩৫টি দিবস তুলনামূলক সীমিত পরিসরে পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এগুলো মূলত নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক প্রতীকী দিবস। এ ক্ষেত্রে আলাদা কোনো উন্নয়ন বরাদ্দ রাখা হয়নি এবং মন্ত্রীদের উপস্থিতি প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।
অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক না করার নির্দেশ
পরিপত্রে বলা হয়েছে, অনেক মন্ত্রণালয় ও দপ্তর আলাদাভাবে কিছু দিবস পালন করে থাকে, যেগুলোর কিছু পুনরাবৃত্তিমূলক বা বর্তমান প্রেক্ষাপটে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। সরকারি সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য এসব দিবস পালনে সংস্থাগুলোকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
তবে শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ (১–৭ আগস্ট), বিশ্ব শিশু সপ্তাহ (২৯ সেপ্টেম্বর–৫ অক্টোবর), জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ, সশস্ত্র বাহিনী দিবস (২১ নভেম্বর), পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ, মৎস্য পক্ষ, বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জাতীয় ক্রীড়া সপ্তাহ—এসব কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে আয়োজন করতে বলা হয়েছে।
ব্যয় কমাতে বিশেষ নির্দেশনা
দিবস পালনের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমকপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেতার ও টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠান এবং সীমিত পরিসরে সেমিনার বা সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা যাবে।
এ ছাড়া—
কর্মদিবসে শোভাযাত্রা বা বড় সমাবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে
সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি সাধারণত তিন দিনের মধ্যে সীমিত রাখতে বলা হয়েছে
জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ঢাকায় এনে অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে একই ধরনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস একই দিনে একত্রে পালনের ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন