চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা একটি চালান থেকে বিএমডব্লিউ স্পোর্টস বা রেসিং কার, আরেকটি বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়ির সামনের অর্ধাংশ এবং পাঁচটি হাফ-কাট ইসুজু ট্রাক জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্দেহজনক চালানটির কায়িক পরীক্ষা করে এসব পণ্যের সন্ধান পাওয়া যায়। বুধবার সিআইআইডি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
শুল্ক নথিতে চালানটিতে ব্যবহৃত ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি, পাওয়ার স্টিয়ারিং অ্যাসেম্বলি ও অন্যান্য গাড়ির যন্ত্রাংশ থাকার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে কনটেইনার খুলে কায়িক পরীক্ষা চালানোর পর ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়ে।
শুল্ক গোয়েন্দারা জানান, চালানটিতে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন বা সিকেডি অবস্থায় দুই আসনের একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস/রেসিং কার পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে গাড়িটিকে ২০০৯ সালের মডেলের ‘এস ড্রাইভ ২৩আই’ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। এর ইঞ্জিন ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ সিসি। তবে গাড়িটির মডেল, চ্যাসিস ও আমদানির বৈধতা নথিপত্র ও কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
একই চালানে পাওয়া গেছে বিএমডব্লিউ ৭৪০আই মডেলের একটি গাড়ির সামনের অর্ধাংশ। প্রাথমিকভাবে এটি ২০১৬ সালের মডেল এবং ইঞ্জিনের ক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার সিসি বলে ধারণা করা হচ্ছে। গাড়িটির শুধু সামনের অংশ কেন ওই চালানে এসেছে, তা নিয়ে তদন্ত করছে শুল্ক গোয়েন্দারা। এর বাকি অংশ অন্য কোনো চালানে আনা হয়েছে কি না বা আনার চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেবিনে যন্ত্রাংশ, বাইরে হাফ-কাট ট্রাক
কায়িক পরীক্ষায় পাঁচটি হাফ-কাট ইসুজু ট্রাকও পাওয়া যায়। শুল্ক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ট্রাকগুলোর কেবিনের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ কৌশলে প্যাক করে রাখা হয়েছিল। ফলে সাধারণ গাড়ির যন্ত্রাংশের ঘোষণা দিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গাড়ি ও গাড়ির অংশ আমদানির বিষয়টি সামনে এসেছে।
চালানটির আমদানিকারক চট্টগ্রামের হালিশহরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল। এর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আমিন (সিঅ্যান্ডএফ) প্রাইভেট লিমিটেড। আর রপ্তানিকারক সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি এলএলসি।
শুল্ক ফাঁকির আশঙ্কা, তদন্তে কয়েকটি বিষয়
ঘোষিত পণ্য ও বাস্তবে পাওয়া পণ্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় মিথ্যা ঘোষণা, শুল্ক-কর ফাঁকি এবং আমদানি নীতিমালা লঙ্ঘনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে সিআইআইডি। একই সঙ্গে কাটা বা খণ্ডিত গাড়ির বিভিন্ন অংশ আলাদা চালানে এনে পরে দেশে পুনঃসংযোজনের কোনো কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা-ও তদন্ত করা হচ্ছে।
শুল্ক গোয়েন্দারা গাড়িগুলোর চ্যাসিস বা ভিআইএন, ইঞ্জিনের তথ্য, মূল্য এবং আমদানির বৈধতা যাচাই করবে। তদন্ত শেষে কাস্টমস আইন, ২০২৩ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিআইআইডি।
✍️ মন্তব্য লিখুন