নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় ২ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি আজ বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল এবং ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পুরোনো জমিতেই হবে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র
প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে রামপালের ব্লক-বি এলাকায় বিপিডিবির মালিকানাধীন জমিতে। ২০১২ সালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য রামপালে মোট ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৯১৮ দশমিক ৫০ একর ব্লক-বি এলাকায় অব্যবহৃত রয়েছে। নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন না হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়ন-জটিলতা কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ৬৮৫ একর জমি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য উপযোগী পাওয়া গেছে। ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) ২০২৫ সালের মে মাসে এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করে।
প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৬ টাকা ১৮ পয়সা
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, উৎপাদিত বিদ্যুতের সম্ভাব্য ট্যারিফ প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ১৮ পয়সা। বিপিডিবির হিসাবে, ফেনীর সোনাগাজীতে প্রস্তাবিত ২২০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের তুলনায় রামপাল প্রকল্পের বিদ্যুতের সম্ভাব্য ইউনিটপ্রতি দাম প্রায় ৪৩ শতাংশ কম।
সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করতে প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ২৩০ কেভি ডাবল-সার্কিট সঞ্চালন লাইন এবং প্রয়োজনীয় সাবস্টেশন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় সংযোজন
বর্তমানে দেশের অনগ্রিড বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় সৌরবিদ্যুতের অংশ খুবই সীমিত। বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট অনগ্রিড বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার ৮২৭ মেগাওয়াট; এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদন সক্ষমতা ৭৯৭ মেগাওয়াট। রামপালের ৪৪২ মেগাওয়াটের প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হবে।
সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতির লক্ষ্য অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে মোট জ্বালানি মিশ্রণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। রামপালের এই প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখবে বলে পরিকল্পনা কমিশন মনে করছে। পাশাপাশি প্রকল্পটি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়ক হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রকল্পটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন