আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজে সাবমেরিন থেকে টর্পেডো হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর জাহাজটি বিপদ সংকেত পাঠালে উদ্ধার তৎপরতায় এগিয়ে আসে ভারতীয় নৌবাহিনী। ঘটনাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ভারতীয় নৌবাহিনী জানায়, ইরানের ফ্রিগেট IRIS Dena থেকে পাঠানো বিপদ সংকেত পাওয়ার পরপরই অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। সংকেতটি পৌঁছায় Maritime Rescue Coordination Centre Colombo-এ। সে সময় জাহাজটি শ্রীলঙ্কার গ্যালি উপকূল থেকে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে অবস্থান করছিল, যা শ্রীলঙ্কার অনুসন্ধান ও উদ্ধার অঞ্চলের মধ্যে পড়ে।
সংকেত পাওয়ার পরপরই ভারতীয় নৌবাহিনী উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করে। একটি দূরপাল্লার সামুদ্রিক টহল বিমান ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য লাইফ রাফটসহ আরেকটি বিমান প্রস্তুত রাখা হয়।
এছাড়া কাছাকাছি অবস্থানরত ভারতীয় প্রশিক্ষণ জাহাজ INS Tarangini–কে উদ্ধার কাজে সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা পাওয়ার পর বিকেল চারটার মধ্যে জাহাজটি অনুসন্ধান এলাকায় পৌঁছে যায়। একই সময়ে শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।
পরে ভারতের কোচি বন্দর থেকে জরিপ জাহাজ INS Investigator ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে জাহাজটি এখনও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে ইরানের যুদ্ধজাহাজটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার আগে বিস্ফোরণের খবর জানিয়ে বিপদ সংকেত পাঠায়।
তবে শ্রীলঙ্কার উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই যুদ্ধজাহাজটি সম্পূর্ণ ডুবে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন