অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ০১:৩০ PM
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাল সনদে শিক্ষক নিয়োগ, ভুয়া নিয়োগপত্র, অর্থ আত্মসাৎ এবং ভ্যাট-আয়কর সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে প্রায় ৯০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।
রোববার (১ মার্চ) অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর এম. এম. সহিদুল ইসলামের স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন মোট ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন, নিরীক্ষা ও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ডে উন্মুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাল বা ভুয়া সনদ, অগ্রহণযোগ্য শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ, অর্থ আত্মসাৎ এবং ভ্যাট ও আয়কর সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ৮৯ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৬০৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৭৬ দশমিক ৫২৩ একর বেহাত হওয়া জমি উদ্ধারের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়–এর রেজিস্ট্রার, জেলা শিক্ষা অফিস, ব্যবস্থাপনা কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছেও ইমেইলে কপি পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নিজস্ব ইমেইলে প্রতিবেদন না পেয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা অফিসের ডি-নথি সিস্টেম থেকে তা সংগ্রহ করা যাবে। জেলা অফিস থেকেও পাওয়া না গেলে প্রতিষ্ঠানের লেটারহেডে পরিচালক, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বরাবরে আবেদন করে নির্ধারিত ইমেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে। আবেদন পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ইমেইলে পুনরায় প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
অধিদপ্তর স্পষ্ট করেছে, প্রতিবেদন সংগ্রহের জন্য সশরীরে দপ্তরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
শিক্ষা প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জাল সনদ ও ভুয়া নিয়োগের অভিযোগে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের আর্থিক পুনরুদ্ধার ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে তারা মনে করছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন