অনলাইন ডেস্ক | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আপাতত কোনো রিভিউ করা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ-পরবর্তী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছে এবং বর্তমানে সরকার নতুন করে আইনি জটিলতায় যেতে চায় না। তিনি বলেন, প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। এ অবস্থায় পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত পুনঃরিভিউ করলে আদালতসংক্রান্ত জটিলতা ও মামলা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে, যা সামগ্রিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও বিলম্বিত করতে পারে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আগের সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করলে চলমান মামলা বা বিচারাধীন বিষয়গুলোও প্রভাবিত হতে পারে। তাই এই মুহূর্তে নতুন করে কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তবে অনিয়মের নির্দিষ্ট ও প্রমাণসম্বলিত অভিযোগ পেলে তা গুরুত্বসহকারে যাচাই-বাছাই করে পুনঃতদন্তের সুযোগ রাখা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, কিছু ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন বলে দাবি করছেন প্রার্থীদের একটি অংশ। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে ১০ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়ে এবং প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। ২১ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। পরে ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় এবং ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা বাড়লেও সরকার বলছে, প্রমাণভিত্তিক অভিযোগ ছাড়া প্রক্রিয়া পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে নেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ ও যাচাই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন