নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বা সক্ষমতায় কোনো ঘাটতি নেই; বরং ঘাটতি রয়েছে দিকনির্দেশনা ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে—এমন মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষার্থীরা এখন অনেক বেশি স্মার্ট, প্রযুক্তিবান্ধব এবং নতুন বিষয় শেখার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত মানসিকতার অধিকারী। তারা পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। তবে তাদের যথাযথভাবে গাইড করা হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।
তার ভাষায়, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো ঘাটতি নেই, ঘাটতি আমাদের—মন্ত্রণালয়, অভিভাবক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের। আমরা তাদের প্রোপারলি গাইড করতে পারিনি।”
দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সিদ্ধান্তে গতি
সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী জানান, অতীতে শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে কাজ করায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং পরবর্তী স্তরের কাঠামোগত পুনর্গঠনের পরিকল্পনা থাকলেও প্রশাসনিক বিভাজনের কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে দুই মন্ত্রণালয় একই ছাতার নিচে কাজ করায় নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একীভূত কাঠামোর ফলে ফাইল নিষ্পত্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়েছে এবং কোনো ফাইল ৭২ ঘণ্টার বেশি আটকে না রাখার নীতিতে কাজ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের যৌথ তদারকিতে শিক্ষা প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পিএইচডি ডিগ্রির অপব্যবহার রোধে উদ্যোগ
উচ্চশিক্ষার মান রক্ষায় পিএইচডি ডিগ্রির যথাযথ যাচাইয়ের ওপর জোর দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে এমন অনেক পিএইচডি ডিগ্রি ব্যবহৃত হচ্ছে, যেগুলোর একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ।
তার মতে, বিদেশ থেকে অর্জিত পিএইচডি ডিগ্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি, প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের শিক্ষা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন যাচাই করা জরুরি।
এ লক্ষ্যে প্রয়োজন হলে একটি যাচাইকরণ কমিটি গঠন করে পিএইচডি ডিগ্রির তালিকা প্রস্তুত ও মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “পিএইচডি শব্দের অপব্যবহার বন্ধ করা না গেলে উচ্চশিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
শিক্ষার ধারাবাহিকতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা একটি দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নীতিগত ধারাবাহিকতা, কার্যকর দিকনির্দেশনা এবং পরিবার-প্রতিষ্ঠান-রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।
তিনি মনে করেন, সঠিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করা গেলে দেশের শিক্ষার্থীরাই শিক্ষা খাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন