অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন-কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা এক সাংবাদিকের মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইংরেজি দৈনিক The Business Standard-এর সাংবাদিক আব্বাস উদ্দিন নয়ন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে একাধিক দাবি তুলে ধরেছেন, যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
সোমবার দেওয়া ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর প্রধান দায়িত্ব ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি নিশ্চিত করা। এছাড়া প্রয়াত রাজনীতিক আরাফাত রহমান কোকো-র বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়টিও তার দায়িত্বের অংশ ছিল বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
পদ্মা সেতু ইস্যুতে ‘ক্লিন শিট’ নিয়ে দাবি
ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, দুদকের সাবেক কমিশনার হিসেবে তার দ্বিতীয় ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ ছিল পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ‘ক্লিন শিট’ দেওয়া।
তৃতীয় দায়িত্ব হিসেবে ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলো বাতিল করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
পোস্টে আব্বাস উদ্দিন নয়ন দাবি করেন, এসব দায়িত্ব তিনি ‘অত্যন্ত আনুগত্যের সঙ্গে’ পালন করেছেন বলে তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ।
সরকারি বা সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতিক্রিয়া নেই
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেও জানা গেছে।
উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ একসময় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচিত হলেও পরে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সময়ে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন উঠে আসে। তবে সাম্প্রতিক এই ফেসবুক পোস্টে করা দাবিগুলো ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং তা সরকারি অবস্থান বা যাচাইকৃত তদন্ত প্রতিবেদনের প্রতিনিধিত্ব করে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা
বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এমন সংবেদনশীল রাজনৈতিক দাবি জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তাই এ ধরনের বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রামাণ্য নথি, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা জরুরি।
✍️ মন্তব্য লিখুন