১২ এপ্রিল ২০২৬
বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রত্যাশিত বদলি কার্যক্রম অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে বদলি আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে—যদিও এর আগে কিছু প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি।
সফটওয়্যার প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করছে সময়সূচি
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে। এই সফটওয়্যার নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। সম্প্রতি এতে নতুন কিছু ফিচার যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নতুন সংযোজনের মধ্যে রয়েছে—সরকার প্রয়োজনে শাস্তিমূলক বদলির সুযোগ রাখার বিষয়টি। ফলে সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে, যা আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তথ্য সংগ্রহের পর শুরু হবে আবেদন
চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর মাঠপর্যায়ে শিক্ষকদের তথ্য সংগ্রহ করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এ প্রক্রিয়ার জন্য নির্ধারিত সময় ১৫ দিন। এরপর সংগৃহীত তথ্য সফটওয়্যারে যুক্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে বদলি আবেদন গ্রহণ শুরু করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে মে মাসের মাঝামাঝি সময়েই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।
দীর্ঘদিনের দাবি ও নীতিমালার পটভূমি
উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের আগে বদলির কোনো সুযোগ ছিল না। তারা শুধুমাত্র গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন।
প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এ সুবিধা পেলেও, চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে অসন্তোষ সৃষ্টি হলে শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে বদলি চালুর উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং একটি নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়।
দেরির কারণ ও বর্তমান অবস্থা
তবে রিট মামলা, নীতিমালা সংশোধন এবং সফটওয়্যার প্রস্তুতে বিলম্বসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে বদলি কার্যক্রম আটকে ছিল। এমনকি সফটওয়্যার সম্পূর্ণ প্রস্তুত না হওয়ায় একাধিকবার ডেমো প্রদর্শন পিছিয়ে যায়।
বর্তমানে সফটওয়্যার চূড়ান্তকরণের কাজ চলমান রয়েছে এবং পুনরায় ডেমো দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সব প্রক্রিয়া শেষ হলে বহু প্রতীক্ষিত এই বদলি কার্যক্রম দ্রুতই চালু করা সম্ভব হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন