নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় মহাসড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দিয়েছেন হকাররা। এ সময় হকারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের আশুলিয়ার ডিইপিজেড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের ডিইপিজেড এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের বিভিন্ন অংশে বসানো অবৈধ হকার উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানের সময় একদল হকার একত্র হয়ে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাঁরা লাঠিসোঁটা নিয়ে চন্দ্রাগামী লেন অবরোধের চেষ্টা করেন।
পরে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা হকারদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হকারদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান চালানোর সময় হকাররা বাধা দেন। একপর্যায়ে তাঁরা চন্দ্রাগামী লেন অবরোধের চেষ্টা করেন। পরে তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বারবার উচ্ছেদ, আবারও দখল
আশুলিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের ফুটপাত দখল করে দীর্ঘদিন ধরে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে পথচারীদের ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে অনেক ক্ষেত্রে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।
এর আগে চলতি বছরের মার্চে ঈদকে সামনে রেখে যানজট কমাতে আশুলিয়া মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় হকার উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন। সে সময় হকারদের পক্ষ থেকে বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়েও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে দোকান বসানোর কারণে জনদুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে। উচ্ছেদ অভিযানের পর আবারও একই স্থানে দোকান বসানোর প্রবণতা থাকায় স্থায়ী সমাধান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
পথচারীদের ভোগান্তি
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলের পোশাকশ্রমিক ও পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কের পাশ দিয়ে চলাচল করতে হয়। ব্যস্ত সময়ে এসব এলাকায় যানবাহনের চাপের সঙ্গে ফুটপাত দখলের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি উচ্ছেদ করা স্থানে যাতে পুনরায় দোকান বসতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রয়েছে স্থানীয়দের। একই সঙ্গে জীবিকার ওপর নির্ভরশীল হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
এর আগে আশুলিয়া এলাকায় ফুটপাত দখল নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের পর কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পরে আবারও অনেক স্থানে দোকানপাট বসে যায়। ফলে শুধু উচ্ছেদ নয়, নিয়মিত নজরদারি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন