নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে অনেকেই দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখলেও শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে এই জনসংখ্যাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি ও আশীর্বাদ হতে পারে।
রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তিনি মনে করেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তুলতে পারলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যাকে বোঝা হিসেবে নয়, সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এজন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করা, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগই একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি। শিক্ষা খাতে সরকারের ধারাবাহিক বিনিয়োগের ফলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বড় জনসংখ্যা একদিকে যেমন কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ সৃষ্টি করে, অন্যদিকে সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা থাকলে এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতার গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবেও কাজ করতে পারে। বর্তমানে দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কর্মক্ষম বয়সের হওয়ায় ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং উন্নয়নকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষা, দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন