ডেস্ক নিউজ
দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছরে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সংখ্যা কমেছে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সোমবার রাজধানীতে এক সরকারি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার অপরাধ দমনে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ, র্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
মন্ত্রী জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম কয়েক মাসে নিবন্ধিত অপরাধের পরিসংখ্যানে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বৃদ্ধির ফলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে তিনি স্বীকার করেন, বিচ্ছিন্ন কিছু অপরাধের ঘটনা এখনও ঘটছে এবং সেগুলো নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের এই দাবির বাস্তবতা যাচাইয়ে বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অপরাধের প্রকৃত চিত্র মূল্যায়নের জন্য নিবন্ধিত মামলার সংখ্যা, অপরাধের ধরন এবং বিচারিক অগ্রগতির তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।
সরকারের দাবি অনুযায়ী অপরাধ কমলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত আলোচিত হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই ও সহিংসতার ঘটনাগুলো নিয়ে জনমহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন কতটা স্থায়ী ও কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন