রাজবাড়ী প্রতিনিধি | জাতীয় ডেস্ক
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর নদী থেকে তোলা হয়েছে। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৬ জনে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
গত ২৫ মার্চ বিকেলে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর পন্টুন দিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
রাতভর অভিযানের একপর্যায়ে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় বাসটি নদীর তলদেশ থেকে উপরে তোলা হয়। উদ্ধারকর্মীরা বাসের ভেতর থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করেন। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে অনেক পরিবার ফেরিঘাট ও স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভিড় করেন। উদ্ধার অভিযানের প্রথম দিন ও পরবর্তী দিনগুলোতে নদীতে তল্লাশি চালিয়ে আরও কয়েকটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো, যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসবে।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যাত্রী নিরাপত্তা, ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনা এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা।
✍️ মন্তব্য লিখুন