প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৫ এএম | আপডেট : ০৭:৫৬ এএম
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera রোববার (১২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে ‘অসাধারণ আতিথেয়তা’র জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আলোচনায় কোনো ঘাটতি থাকলে তার দায় পাকিস্তানের নয়। গত প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ বা অগ্রহণযোগ্য সীমারেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে—কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া সম্ভব এবং কোন বিষয়ে নয় তা পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে ইরান সেই শর্তে সম্মত না হওয়ায় সমঝোতা হয়নি। তিনি ইঙ্গিত দেন, এ অচলাবস্থা ইরানের জন্যই বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা সরাসরি অংশ নেন—যা প্রায় ৪৭ বছর পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈঠকে ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ।
আলোচনায় লেবানন সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ছাড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকের পরিবেশ ইতিবাচক ছিল এবং উভয় পক্ষ লিখিত প্রস্তাবও বিনিময় করেছে।
এর আগে আলোচনা পরোক্ষভাবে চললেও শনিবার সন্ধ্যায় তা সরাসরি বৈঠকে রূপ নেয়। এতে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরাও উপস্থিত ছিলেন। White House সরাসরি বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরানের প্রতিনিধিদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র জব্দ সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দেওয়ার পরই তারা আলোচনায় অংশ নেয়। যদিও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষণ:
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি না হলেও সরাসরি সংলাপের এ উদ্যোগ ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অগ্রগতির পথ খুলে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা পেরিয়ে দুই দেশ আলোচনার টেবিলে বসেছে—এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর সম্ভাব্য সূচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন