নিজস্ব প্রতিবেদক | ০২ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি বলেছে, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নবম পে-স্কেল কার্যকর করা হলে তা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
সম্প্রতি আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন ঢাকা সফরে এসে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এ সুপারিশ দেন।
বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব
আইএমএফ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা—বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর ফলে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা আমদানিনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
কেন ঝুঁকিপূর্ণ পে-স্কেল
আইএমএফের মতে, এই পরিস্থিতিতে সরকারি খাতে বেতন-ভাতা বাড়ানো হলে—
মূল্যস্ফীতি আরও ত্বরান্বিত হতে পারে
সরকারের ব্যয় বেড়ে আর্থিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে
বেসরকারি খাতে মজুরি কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্য তৈরি হতে পারে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ কর্মসংস্থান বেসরকারি খাতে হওয়ায় সরকারি খাতে হঠাৎ বেতন বৃদ্ধি সামগ্রিক অর্থনীতিতে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে।
সরকারের অবস্থান
সরকারও আপাতত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ইতোমধ্যে পে-স্কেলের জন্য নির্ধারিত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা জ্বালানি ও ভর্তুকি খাতে স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব ঘাটতি ও ব্যাংকঋণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আর্থিক চাপ বেড়েছে।
এ অবস্থায় সরকার ‘ধীরে চল’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানা গেছে।
অর্থনীতিবিদদের মত
দেশের অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আগে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা জরুরি। এজন্য একটি নতুন পে-স্কেল কমিশন গঠনের প্রস্তাবও এসেছে।
সব মিলিয়ে, আইএমএফের সুপারিশের প্রেক্ষিতে নবম পে-স্কেল আপাতত স্থগিত রাখার দিকেই ঝুঁকছে সরকার—এমনটাই সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন