ক্রীড়া প্রতিবেদক | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক দায়িত্ব গ্রহণের তৃতীয় কর্মদিবসেই ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) আয়োজিত এ সভায় তিনি স্কুল পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু খেলা বাধ্যতামূলক করার প্রাথমিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেন, যা ভবিষ্যতে জাতীয় ক্রীড়ার ভিত্তি মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সভায় সাংবাদিকরা অগ্রাধিকারভিত্তিক খেলাগুলোর মধ্যে শুটিং, আর্চারি ও হকির উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের দ্বন্দ্ব, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং ৫২টি ফেডারেশনের কার্যকারিতা পর্যালোচনায় একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেন তারা।
স্কুল পর্যায়ে সম্ভাব্য বাধ্যতামূলক পাঁচ খেলা
মতবিনিময় সভায় স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলাকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে পাঁচটি খেলা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব উঠে আসে। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে—
ফুটবল
ক্রিকেট
অ্যাথলেটিক্স
হ্যান্ডবল
কারাতে (এবং বিকল্প হিসেবে দাবা)
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব খেলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা, কৌশলগত চিন্তাশক্তি ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে। বিশেষ করে অ্যাথলেটিক্সকে সব খেলাধুলার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অলিম্পিক লক্ষ্য সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
সভায় প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে ধাপে ধাপে দক্ষিণ এশীয় (সাফ) ও এশিয়ান পর্যায়ে শক্তিশালী করে ভবিষ্যতে অলিম্পিকে পদক জয়ের লক্ষ্যে এগোনো হবে। এজন্য তৃণমূল পর্যায় থেকেই খেলোয়াড় তৈরি এবং স্কুলভিত্তিক ক্রীড়া কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সাংবাদিক ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজন হলে কমিশন বা কমিটি গঠন করে তদারকি কার্যক্রম চালানো হবে।
অবকাঠামো ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন
মতবিনিময় সভায় বিকেএসপির জবাবদিহিতা, জাতীয় স্টেডিয়ামের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সমন্বয় ঘাটতির বিষয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রশাসনিক সংস্কার ছাড়া ক্রীড়ার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
খেলাধুলায় অভিভাবকদের মানসিকতা বদলের আহ্বান
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে অধিকাংশ অভিভাবক সন্তানকে ডাক্তার, প্রকৌশলী বা অন্যান্য পেশাজীবী হিসেবে দেখতে চান; খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্নকে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এই প্রবণতা বদলাতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিতে চায়।
তার ভাষায়, খেলোয়াড় তৈরির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি স্বীকার করেন, এটি রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে স্কুল পর্যায় থেকেই বাধ্যতামূলক খেলাধুলা চালু করা গেলে ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী ক্রীড়া প্রজন্ম তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, স্কুল পর্যায়ে বাধ্যতামূলক খেলাধুলা চালু হলে প্রতিভা অন্বেষণ সহজ হবে এবং জাতীয় দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদে দক্ষ খেলোয়াড়ের সরবরাহ বাড়বে। তবে এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত মাঠ, প্রশিক্ষক, সরঞ্জাম এবং টেকসই অর্থায়ন।
সামগ্রিকভাবে, সরকার যদি পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, তাহলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রজন্মের উত্থান ত্বরান্বিত হবে—এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের।
✍️ মন্তব্য লিখুন