রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী ইকরাম হোসেন মোল্লা হত্যা মামলায় তার দুই বন্ধুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঢাকার একটি আদালত এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ রায়ে আসামি মো. সিদ্দিক ও মো. শান্ত মিয়াকে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রমাণ নষ্টের অভিযোগে (২০১/৩৪ ধারা) তাদের ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিতদের মধ্যে শান্ত মিয়া বর্তমানে পলাতক রয়েছে বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।
টাকার বিরোধ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা
মামলার নথি ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ইকরাম হোসেন মোল্লা তার বন্ধু শান্ত মিয়াকে ইট-বালুর ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য দুই লাখ টাকা দিয়েছিলেন। বিনিময়ে প্রতি মাসে কিছু অর্থ দেওয়ার কথা থাকলেও ছয় মাসেও কোনো টাকা পাননি তিনি। অভিযোগ রয়েছে, শান্ত নেশাগ্রস্ত হয়ে ব্যবসার পুঁজি অপচয় করতে থাকেন।
এ পরিস্থিতিতে ইকরাম টাকা ফেরত চাইলে এবং বিষয়টি শান্তর পরিবারকে জানালে তাদের মধ্যে বিরোধ চরমে ওঠে। পরে শান্ত মিয়া তার সহযোগী আবু সিদ্দিককে নিয়ে ইকরামকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
নিখোঁজের দুই দিন পর মরদেহ উদ্ধার
২০২৩ সালের ৪ মে বাসা থেকে বের হওয়ার পর ইকরাম নিখোঁজ হন। পরদিন খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে তার পরিবার খিলক্ষেত থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। ৬ মে খিলক্ষেতের পাতিরা বালুর মাঠ এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা কবির হোসেন মোল্লা খিলক্ষেত থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ২৬ নভেম্বর পুলিশ পরিদর্শক এনামুল হক খন্দকার আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
বিচার প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ
২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ শেষে আদালত দুই আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে দৃষ্টান্তমূলক এ রায় প্রদান করেন।
আইনজীবীরা বলছেন, আর্থিক বিরোধ, বন্ধুত্বের অবনতি এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সুস্পষ্ট প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপিত হওয়ায় এই রায় এসেছে। মামলার রায় ঘোষণার মাধ্যমে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো, তবে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন