অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পবিত্র রমজান মাসে রোজা পালন মুসলমানদের জন্য ফরজ ইবাদত। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও সকল রোজা ভঙ্গকারী কাজ থেকে বিরত থাকা এ ইবাদতের মূল শর্ত। তবে অসুস্থতা, দুর্বলতা বা চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন দেখা দিলে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—স্যালাইন, ইনজেকশন বা শিরায় ওষুধ নিলে কি রোজা ভেঙে যায়?
ইসলামি ফিকহের আলোচনায় এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে, যা চিকিৎসা পদ্ধতির ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
রোজা ভঙ্গের মূলনীতি কী
ফিকহবিদদের মতে, রোজা ভঙ্গের প্রধান কারণ হলো ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্য, পানীয় বা পুষ্টিদায়ক কোনো বস্তু শরীরে গ্রহণ করা, যা খাবার-পানীয়ের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। সাধারণভাবে মুখ বা নাক দিয়ে পাকস্থলীতে খাদ্য বা পানীয় প্রবেশ করলে রোজা ভঙ্গ হয়।
তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন পদ্ধতি—যেমন ইনজেকশন, স্যালাইন, আইভি ফ্লুইড—নিয়ে আলেমদের বিস্তারিত মতামত রয়েছে।
পুষ্টিদায়ক স্যালাইন ও ইনজেকশনের বিধান
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির আলেমদের মতে, যে সব ইনজেকশন বা স্যালাইন শরীরে পুষ্টি যোগায় এবং খাদ্য বা পানীয়ের বিকল্প হিসেবে কাজ করে, সেগুলো রোজা ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হবে। কারণ এগুলো শরীরকে শক্তি জোগায় এবং খাবারের বিকল্প ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞ আলেমদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, শিরায় দেওয়া স্যালাইন (আইভি ফ্লুইড), গ্লুকোজ বা পুষ্টিসমৃদ্ধ ইনজেকশন শরীরকে সরাসরি উপকার দেয় এবং তা খাবারের বিকল্পের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তাই দিনের বেলায় এগুলো গ্রহণ করলে রোজা ভেঙে যাওয়ার হুকুম প্রযোজ্য হবে।
চিকিৎসামূলক (নন-নিউট্রিটিভ) ইনজেকশনের বিধান
অন্যদিকে, যেসব ইনজেকশন কেবল চিকিৎসার জন্য দেওয়া হয়—যেমন ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক, জ্বরের ওষুধ বা সাধারণ ভিটামিন (যদি তা পুষ্টির বিকল্প না হয়)—সেগুলো রোজা ভঙ্গ করে না বলে অধিকাংশ আলেম মত দিয়েছেন।
ইনজেকশন পেশীতে (আইএম), ত্বকের নিচে (এসসি) বা শিরায় দেওয়া হলেও যদি তা খাদ্য বা পানীয়ের বিকল্প না হয়, তাহলে রোজা নষ্ট হবে না।
স্যালাইন পুশের বিষয়ে আলাদা সতর্কতা
চিকিৎসাবিদদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে রগে (আইভি) দেওয়া স্যালাইনে লবণ ও তরল উপাদান থাকে, যা শরীরকে সরাসরি শক্তি ও প্রয়োজনীয় তরল সরবরাহ করে। এ কারণে বহু আলেম এটিকে পুষ্টিদায়ক হিসেবে বিবেচনা করে রোজা ভঙ্গকারী বলেছেন।
তবে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হলে রোগীর জন্য রোজা ভাঙার অনুমতি রয়েছে, এবং পরে সুস্থ হলে কাজা আদায় করতে হবে—এমনটিও শরিয়তের সাধারণ বিধান।
সাপোজিটরি ব্যবহারে রোজা ভাঙে কি?
গুহ্যদ্বার দিয়ে ব্যবহৃত সাপোজিটরি বা মেডিকেল সাপোজিটরি সাধারণত রোজা ভঙ্গ করে না। কারণ এটি খাবার বা পানীয় নয় এবং পানাহারের বিকল্প হিসেবেও গণ্য হয় না; বরং চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়।
আলেমদের পরামর্শ
ফিকহ বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি সম্ভব হয়, ইনজেকশন বা স্যালাইন রাতের বেলায় নেওয়া উত্তম। তবে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীর সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ।
ধর্মীয় বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তের জন্য নিজ নিজ মাযহাবের আলেম বা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সর্বোত্তম বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন