শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর নির্দেশে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসানের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে একাধিকবার দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় এবং দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ওসিকে হুমকির অভিযোগ
মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগটি ওঠে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেনকে হুমকি দেওয়ার। সোমবার রাতে ওসির কক্ষে বসে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য চাপ দেওয়ার সময় তিনি ওসিকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনার ৩৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে মতিউর রহমানকে বলতে শোনা যায়, ‘বাহার যে পথে গেছে, আপনিও যাবেন সে পথে।’ বাহার মিয়া নড়িয়া থানার সাবেক ওসি। তাঁকে প্রায় দুই মাস আগে বদলি করা হয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে, নোয়াদ্দা বাংলাবাজার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে মতিউর রহমানের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালেবের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে আবু তালেবের ভাই আবদুস সালামকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে চাপ দেন মতিউর। পুলিশ রাজি না হলে ওসির সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, পুলিশ অভিযোগটি যাচাই করেছে। তাঁদের কাছে ঘটনাটি সাধারণ হাতাহাতির ঘটনা বলে প্রতীয়মান হয়েছে। আবদুস সালামের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওসিকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
আরও অভিযোগ
এর আগেও মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বহিষ্কারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মতিউর রহমান সাগর লিখেছেন, ‘যে দলের জন্য জীবন-যৌবন শেষ করলাম, সেই দল আমাকে বহিষ্কার করল—আলহামদুলিল্লাহ।’
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
জেলা বিএনপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বহিষ্কারাদেশের অনুলিপি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন