ডেস্ক নিউজ
রাজধানীর মিরপুরে এক টুকরো রুটি চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে এক পথশিশুকে নির্মমভাবে মারধরের ঘটনায় এক নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তির নাম রিপন মণ্ডল। তিনি মিরপুর-১ নম্বরের শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের নিরাপত্তাকর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় একটি মেয়েশিশুকে মারধর করা হয়। পরে ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে শিশুটিকে মারধর করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে কয়েকজন কিশোর শিশুটিকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসে।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। অনেকেই শিশুটিকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল হোসেন জানান, ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ বলছে, রিপন মণ্ডল দাবি করেছেন, শিশুটি মার্কেটের একটি দোকান থেকে মুঠোফোন চুরি করেছিল। তবে তাঁর এই দাবি সত্য কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রিপন মণ্ডল বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং পুলিশ পাহারায় রয়েছেন। এর আগে রোববার তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সুস্থ হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে নির্যাতনের শিকার শিশুটিকেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। পুলিশ শিশুটির পরিচয় ও পরিবারের সন্ধানে খোঁজ করছে।
মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) সালেহ্ মুহম্মদ জাকারিয়া বলেছেন, যেকোনো ধরনের নির্মমতার ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ঘটনাটি আবারও রাজধানীতে পথশিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কোনো শিশুর বিরুদ্ধে চুরি বা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই যথাযথ প্রক্রিয়া।
✍️ মন্তব্য লিখুন