আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নির্বাচনী ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’-এর ডাক দিয়েছেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবসের আগে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই আন্দোলনকে ‘শান্তিপূর্ণ বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করেন।
ওয়াংচুক বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে আরও শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। তাঁর মতে, শুধু রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন না করে সৎ, নির্ভীক, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের সামনে নিয়ে আসতে হবে।
ভিডিও বার্তায় তিনি দেশজুড়ে এমন নারী-পুরুষের নাম প্রস্তাব করার আহ্বান জানান, যাঁদের চরিত্র, সততা ও সক্ষমতা রয়েছে এবং যাঁরা ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করতে পারেন। নাগরিকদের কাছ থেকে পাওয়া এসব প্রস্তাব ও ধারণা নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
ওয়াংচুকের এই আহ্বান তাঁর সাম্প্রতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এসেছে। এর আগে শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম ও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে তিনি দিল্লিতে ২৬ দিন অনশন করেন। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে চলা সেই আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে সহিংসতার আশঙ্কা ও আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে তিনি অনশন ভেঙে দেন।
এরও আগে লাদাখের সাংবিধানিক সুরক্ষা, পরিবেশ এবং রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে ওয়াংচুক একাধিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। জুলাইয়ে দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে কর্মসূচির সময় তিনি ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ বলতে ভয় ও অবিচার থেকে মুক্তির সংগ্রামকে বোঝান।
এবারের আহ্বানে অবশ্য তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু আরও বিস্তৃত—ভারতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন। ওয়াংচুক মনে করেন, আগামী কয়েক দশকের জন্য দেশকে একটি নতুন রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির দিকে এগিয়ে নিতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়; বরং দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বে সততা, যোগ্যতা ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য।
✍️ মন্তব্য লিখুন