ডেস্ক রিপোর্ট
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে সহকারী শিক্ষিকার শরীর ম্যাসাজ করানোর অভিযোগে প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট তিনজনকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডিমলা উপজেলার খালিশা চ্যালানী ইউনিয়নের চারঘড়ি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এক সহকারী শিক্ষিকা বিছানায় শুয়ে ছিলেন। এ সময় এক শিশু শিক্ষার্থী তার শরীর ম্যাসাজ করে দিচ্ছিল। একই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন আরও দুই সহকারী শিক্ষিকা। ভাইরাল ভিডিওতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশও দেখা যায়, যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ বিষয়টি আমলে নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্টদের শোকজ করেছে। তাদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নজরে আসার পরই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এদিকে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন