ডেস্ক নিউজ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া “অনার্স পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিষয় বাদ দেওয়া হচ্ছে” শীর্ষক খবরকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ধরনের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি এবং সরকার বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো ঘোষণা দেয়নি।
সম্প্রতি শিক্ষাক্রম সংস্কার, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা সামনে আসে। এসব আলোচনার সূত্র ধরে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয় যে অনার্স পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ কয়েকটি বিষয় বাতিল করা হবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে নানা পর্যায়ে আলোচনা থাকলেও কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর মতো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনের মতো মানবিক বিষয় একটি জাতির ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ফলে এসব বিষয় সম্পূর্ণ বাতিলের প্রশ্নে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা ব্যাপক পর্যালোচনা ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতেই হতে হবে।
এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম ও বিজ্ঞপ্তিতে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনসহ মানবিক বিভাগের বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসূচি ও একাডেমিক কার্যক্রমেও এসব বিষয়ের উপস্থিতি রয়েছে।
শিক্ষা খাতে সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও তা মানবিক বিষয়গুলো বিলুপ্ত করার সমার্থক নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বরং আধুনিক দক্ষতা ও ঐতিহ্যগত জ্ঞানচর্চার মধ্যে সমন্বয় তৈরির দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণকে গুজব বা অসমর্থিত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে তথ্য গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন