ঢাকা: কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায়ও ব্যক্তিগত পরিচয়ে নির্বাচন করার সুযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন ও প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আইনগতভাবে অযোগ্য ঘোষিত না হলে এবং প্রচলিত নির্বাচন বিধিমালা মেনে চললে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরাও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। তবে কোনো অবস্থাতেই নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের ব্যানার, প্রতীক, স্লোগান বা সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার করা যাবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে নয়, ব্যক্তিগত প্রার্থিতা ও আইনগত যোগ্যতার ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হলে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রার্থীর বিরুদ্ধে আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা, দণ্ড বা নির্বাচন-সংক্রান্ত অযোগ্যতা থাকলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
নির্বাচন বিশ্লেষকেরা বলছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন স্থগিত বা কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক অধিকার সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয় না, যদি না তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনগত বাধা থাকে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয় হবে প্রার্থীর ব্যক্তিগত আইনগত অবস্থান এবং নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত শর্ত পূরণ।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, গ্রেপ্তার ও সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনার মধ্যে স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার আগে প্রার্থিতা, আচরণবিধি এবং যোগ্যতার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে। স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে অংশগ্রহণের সুযোগ ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তাই এখন থেকেই আলোচনা জোরালো হয়ে উঠেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন