কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকায় বাবার মৃত্যুর পর ঢোল-বাঁশি বাজিয়ে বিদায় জানানোর এক ব্যতিক্রমী ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ক্ষোভ ও ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি সামনে আসার পর শেষ পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির ছেলে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার কটিয়াদী পৌর এলাকার বাসিন্দা শামসুদ্দিন মারা যান। পরিবারের সদস্যরা যখন দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন তাঁর ছোট ছেলে খাইরুল ইসলাম বাড়িতে ঢোল-বাঁশি বাজানোর আয়োজন করেন। এতে মুহূর্তেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের অনেকেই এ ধরনের আয়োজনকে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কিছু এলাকাবাসী জানাজায় অংশগ্রহণ না করার কথাও জানান। এতে এলাকায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ধর্মীয় নেতারা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেন। তাদের উপস্থিতিতে খাইরুল ইসলাম নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সবার কাছে ক্ষমা চান।
খাইরুল ইসলামের দাবি, তাঁর বাবা জীবদ্দশায় মৃত্যুর পর অতিরিক্ত শোক প্রকাশ না করে আনন্দের সঙ্গে বিদায় দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই তিনি ঢোল-বাঁশির আয়োজন করেছিলেন। তবে তাঁর এই উদ্যোগে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত বলেও জানান।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা তফাজ্জল হক রাশেদীন বলেন, ইসলামে মৃত্যুর পর ধৈর্য ধারণ, দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানো সম্ভব হয়েছে এবং ক্ষমা প্রার্থনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পরবর্তীতে মরহুম শামসুদ্দিনের জানাজা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দাফন সম্পন্ন করা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন