আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়াইর লাপিদ।
তারা নিজেদের রাজনৈতিক দল একীভূত করে ‘বেইয়াহাদ’ (হিব্রুতে অর্থ ‘একসাথে’) নামে একটি নতুন জোট গঠন করেছেন। আগামী অক্টোবরের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এই জোটের নেতৃত্বে থাকবেন বেনেট। তাদের প্রধান লক্ষ্য—দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে ইসরায়েলের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটানো।
ঐক্যের বার্তা
গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে লাপিদ বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত জরুরি। তিনি বেনেটকে “উদারপন্থী, ভদ্র এবং আইন মেনে চলা ডানপন্থী” নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে আদর্শ বিসর্জন দেননি।
অন্যদিকে, বেনেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জোটকে “জায়নবাদী ও দেশপ্রেমিক পদক্ষেপ” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, বিভাজনের রাজনীতি শেষ করে এখন দেশের পুনর্গঠনের সময়।
জোটের নীতিগত অবস্থান
জোটের প্রাথমিক রূপরেখা অনুযায়ী, তারা ধর্মীয় বিষয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবরদস্তিহীন ইহুদি ধর্মচর্চার পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়। তবে বেনেট স্পষ্ট করে দিয়েছেন—এই জোট কেবল জায়নবাদী দলগুলোর সঙ্গে কাজ করবে; কোনো আরব নেতৃত্বাধীন দল এতে অন্তর্ভুক্ত হবে না।
অতীত অভিজ্ঞতা
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে বেনেট ও লাপিদ যৌথভাবে নেতানিয়াহুকে পরাজিত করে সরকার গঠন করেছিলেন। তখন তারা পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং একটি জোট সরকার পরিচালনা করেন, যা ইসরায়েলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
নেতানিয়াহুর চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে নেতানিয়াহু বহুমুখী সংকটের মুখে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, বিতর্কিত বিচার বিভাগীয় সংস্কার এবং জনঅসন্তোষ তার জনপ্রিয়তাকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
এছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-এর হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতা তার সরকারের বড় নিরাপত্তা দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজা যুদ্ধকে ঘিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হয়েছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ
সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোটসহ অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এই নতুন জোটকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির প্রতি জনসমর্থন কমে যাওয়ায় বেনেট-লাপিদ জোটের জন্য ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায়, আসন্ন নির্বাচন ইসরায়েলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন