লক্ষ্মীপুর, ৩১ মার্চ ২০২৬
গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ১৬ জেলেকে ফিরে পেতে তাদের পরিবারের মধ্যে চলছে চরম উৎকণ্ঠা ও শোকের পরিবেশ। লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার উপকূলীয় জেলে পল্লীতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ।
পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনদের ছবি হাতে নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরছেন। তবে এখনো তাদের উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি বা নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
মিয়ানমার কোস্টগার্ডের হাতে আটকের অভিযোগ
নিখোঁজ জেলেদের স্বজনদের দাবি, কক্সবাজারের উখিয়া সংলগ্ন বাংলাদেশ-মিয়ানমার জলসীমা থেকে তাদের মিয়ানমার কোস্টগার্ড আটক করে নিয়ে গেছে। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও তাদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্বজনরা জানান, গত ২৮ মার্চ জেলেদের সঙ্গে শেষবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয়। তখন তারা জানান, আটক অবস্থায় খাদ্য সংকট ও অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। এরপর থেকেই তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
২২ মার্চ ট্রলার নিয়ে যাত্রা
জানা গেছে, ২২ মার্চ ‘মা-বাবার দোয়া’ নামের একটি ট্রলার নিয়ে ১৬ জন জেলে মেঘনা নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যান। তাদের মধ্যে—
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার ৯ জন
নোয়াখালীর ৩ জন
চট্টগ্রামের ৩ জন
ভোলার ১ জন
উপার্জনক্ষম মানুষ হারিয়ে বিপাকে পরিবার
নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের অধিকাংশই তাদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। একেকটি পরিবারের ৫ থেকে ৭ জন সদস্য জীবিকা নির্বাহ করতেন এসব জেলেদের উপার্জনে।
বর্তমানে অনেক পরিবারে কয়েকদিন ধরে চুলা জ্বলছে না। তবে অভাবের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে প্রিয়জনদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা।
প্রশাসনের তৎপরতা ও দাবি
ট্রলার মালিক পক্ষ জানিয়েছে, জেলেদের উদ্ধারে তারা বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সমাজকর্মীরা দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সম্রাট খিসা বলেন,
> “বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ চলছে।”
মানবিক সংকটের মুখে উপকূল
এ ঘটনা উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে পরিবারের জন্য নতুন করে মানবিক সংকট তৈরি করেছে। দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে জেলেদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন