নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতি। সংগঠনটি বলছে, এত দীর্ঘ অভিজ্ঞতার শর্ত আরোপ করা অযৌক্তিক এবং এতে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে সংগঠনটির চট্টগ্রাম জেলা শাখা এ দাবি জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমানে যে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত রয়েছে, তা বাতিল করতে হবে। শিক্ষক সমাজ মনে করে, এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার শর্ত বাস্তবসম্মত নয় এবং এটি কার্যত অনেক সম্ভাবনাময় শিক্ষককে নেতৃত্বের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে।
সংগঠনের নেতারা বলেন, একজন শিক্ষক পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা অর্জন করতে ১৮ বছর সময় লাগার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বরং ১০ থেকে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেই একজন শিক্ষক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার শর্ত ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে নির্ধারণ করা হলে অধিক সংখ্যক যোগ্য শিক্ষক নেতৃত্বের সুযোগ পাবেন। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন চিন্তা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে।
সংগঠনটি দাবি জানিয়ে বলেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত এই শর্ত পুনর্বিবেচনা করা এবং বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতার সীমা নির্ধারণ করা।
এদিকে সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, যদি ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার এই শর্ত—যাকে তারা ‘কালো আইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে—বাতিল করা না হয়, তবে আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
শিক্ষক নেতাদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালা বাস্তবসম্মত করা জরুরি। এজন্য তারা সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন