নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬, ০২:০৬ PM
বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে বিরোধিতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে সংশ্লিষ্টদের উচিত নিজেদের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করা।
বুধবার (৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি গণঅধিকার পরিষদ-এর সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন।
রাশেদ খাঁন তার পোস্টে লেখেন, সংসদ অধিবেশন কোনোভাবেই বর্তমান রাষ্ট্রপতির ভাষণ দিয়ে শুরু হতে পারে না—এমন দাবি জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন, ৮ আগস্ট সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্টরা রাষ্ট্রপতির অবস্থানকে বৈধতা দিয়েছেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জনগণ কি সেটিই চেয়েছিল?” তার ভাষ্য অনুযায়ী, শপথের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অবস্থান মেনে নেওয়ার পর এখন তার ভাষণ নিয়ে বিরোধিতা করা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিএনপি নেতার দাবি, “আপনারাই তো তাকে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এখন বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে বাস্তবতা মেনে নিয়ে গঠনমূলক পরামর্শ দিলেই বরং ভালো হতো। ভুল স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, সংবিধান মেনে শপথ নেওয়ার যুক্তি হিসেবে সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল। তবে তার প্রশ্ন, “সংস্কার ও বিচারের নামে যে সময় নেওয়া হলো, সেই সময়ে দেশে কী পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা কি অজানা?”
রাশেদ খাঁনের বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান অনুসরণ এবং রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়; তবে সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে শপথ গ্রহণ ও সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্ন সামনে আসায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংসদের কার্যক্রম শুরু ও রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান আগামী দিনে এ বিতর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন