অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:১৫
রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে আসা শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। চলতি বরাদ্দের মেয়াদ আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হতে যাচ্ছে, আর নতুন করে অর্থ বরাদ্দ না হলে ১ মার্চ থেকে শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক দায়িত্ব স্থগিত হতে পারে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর ট্রাফিক বিভাগ।
ডিএমপির ট্রাফিক কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বর্তমানে ৮৯৬ জন শিক্ষার্থী দুই শিফটে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে দায়িত্বের বিপরীতে তাদের ৫০০ টাকা হারে সম্মানি দেওয়া হয়। কিন্তু বরাদ্দকৃত সরকারি তহবিল শেষ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ২৮ ফেব্রুয়ারির পর এই সম্মানি দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, ট্রাফিক জনবল সংকটের এই সময়ে শিক্ষার্থীরা কার্যকর সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন। বাজেট বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এলেই কেবল কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
যদিও প্রশাসনিকভাবে শিক্ষার্থী-ভিত্তিক এই সহায়ক কার্যক্রমের মেয়াদ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত, তবে অর্থের অভাবে তা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগ বলছে, নতুন বরাদ্দ না পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাঠে নামানো বাস্তবসম্মত নয়।
রাজধানীতে ট্রাফিক পুলিশের তুলনামূলক জনবল স্বল্পতার কারণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘমেয়াদে জনবল বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকলেও তা বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ। ফলে শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম বন্ধ হলে সড়ক ব্যবস্থাপনায় নতুন করে চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
গত নভেম্বর মাস থেকে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিয়ে সড়কে দায়িত্ব পালন শুরু করেন, যাদের মধ্যে বর্তমানে ৮৯৬ জন সক্রিয় রয়েছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি নগর শৃঙ্খলা রক্ষায় অংশ নিতে তারা আগ্রহী থাকলেও বাজেট সংকটই এখন প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশের একটি অংশের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে স্থায়ী জনবল নিয়োগ জরুরি। তবে ডিএমপি কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যমান জনবল সংকটের সময়ে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করছেন এবং তাদের উপস্থিতি সড়ক শৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এখন পুরো বিষয়টি স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত অর্থ বরাদ্দের অনুমোদন এলে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে; অন্যথায় মার্চের শুরু থেকেই রাজধানীর সড়কে ‘ছাত্র-ট্রাফিক’ কার্যক্রমে বিরতি দেখা দিতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন