সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজি রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন নৌ, রেল, সেতু ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি। তিনি বলেছেন, চাঁদাবাজি একটি ফৌজদারি অপরাধ; যেখানে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানেই সরকার ব্যবস্থা নেবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে ঈদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ঈদযাত্রায় ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি
মন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করবে। যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়া বা হয়রানির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
নৌপথে যাত্রী চলাচল নিরাপদ রাখতে ঈদের আগে ও পরে মোট ১০ দিন বাল্কহেড ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়।
সদরঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা
মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা হবে। অবৈধ পার্কিংও বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘চাঁদাবাজি’ ও ‘চাঁদা’ প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা
চাঁদাবাজি ও চাঁদা এক নয়—এমন মন্তব্য করে শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো তাদের কল্যাণ তহবিলের জন্য চাঁদা নিতে পারে, যা আইনসম্মত। তবে জোরপূর্বক অর্থ আদায় বা যাত্রী-পরিবহন থেকে অবৈধ অর্থ সংগ্রহ করলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
সরকারের বার্তা
সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সমন্বিত তদারকির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখবে বলে জানানো হয়েছে।
ঈদকে সামনে রেখে দেশের সড়ক, নৌ ও রেলপথে যাত্রীচাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এ ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন