নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারের প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির অর্থায়ন চলতি জাতীয় বাজেট থেকেই করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন করে টাকা ছাপিয়ে নয়, বরং বিদ্যমান বাজেট কাঠামোর মধ্য থেকেই এই কর্মসূচির ব্যয় নির্বাহ করা হবে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, আগামী ১০ মার্চ প্রাথমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে একটি করে ইউনিয়নে কার্ড বিতরণ করা হবে।
পাইলট প্রকল্পে ২ কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ২ কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ অর্থ সরাসরি দরিদ্র পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছাবে, যা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নগদ সহায়তা হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
অর্থ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রয়োজনীয় অর্থ চলতি বাজেটের অপ্রত্যাশিত খাত এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়-এর বরাদ্দ থেকে দেওয়া হবে। ফলে অর্থের জোগান নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সংকট হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় সতর্ক অবস্থান
এ বিষয়ে সাবেক সিনিয়র অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, এ ধরনের সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে নতুন করে টাকা ছাপানো উচিত নয়, কারণ তা মূল্যস্ফীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সীমিত পরিসরে পাইলট প্রকল্প চালু করা বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হতে পারে বলে তিনি মত দেন।
তিনি আরও বলেন, দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা এবং সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠায়—এমন পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিলে কর্মসূচির সামাজিক প্রভাব আরও ইতিবাচক হবে।
স্বচ্ছতার ওপর জোর
সরকার জানিয়েছে, সুবিধাভোগী নারী ও পরিবার সঠিকভাবে শনাক্ত করতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। এ জন্য সরকারের খানা জরিপ, সামাজিক নিরাপত্তা ডাটাবেস এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তথ্য ব্যবহার করে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত আকারে শুরু করা এই কর্মসূচি সফল হলে ভবিষ্যতে তা জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও রয়েছে, যা নিম্নআয়ের পরিবারের সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন