বিশেষ প্রতিনিধি
ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, পানি নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন এবং দেশের জনগণের প্রত্যাশা বাংলাদেশের অবস্থানের অন্যতম ভিত্তি।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ ন্যায্য হিস্যা চায়। দুই দেশের মধ্যে পানি নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। এ জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং পানি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সংলাপ প্রয়োজন।
তিনি জানান, পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে ভারতের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য দিল্লির কাছে নাম চাওয়া হয়েছে। এখন ভারতীয় পক্ষের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ এগিয়ে নেওয়া হবে।
গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা
বাংলাদেশ-ভারত পানি বণ্টন আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো গঙ্গার পানি। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর দুই দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সই হয়েছিল। ৩০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নতুন চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন চুক্তিতে এমন নিশ্চয়তা চাওয়া হচ্ছে, যাতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের ন্যায্য পানিপ্রাপ্তি নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে বর্ষায় অতিরিক্ত পানি প্রবাহের কারণে বাংলাদেশে বন্যা, কৃষি ও অর্থনীতির ক্ষতি কমানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
অন্যদিকে ভারত জানিয়েছে, গঙ্গাসহ দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টনসংক্রান্ত বিষয় যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে আলোচনা করা হবে। গঙ্গা চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কারিগরি পর্যায়েও আলোচনা চলছে।
তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর বিষয়ও আলোচনায়
গঙ্গার পাশাপাশি তিস্তা ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের দাবি। দেশের ভাটির অংশে অবস্থিত হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া বাংলাদেশের কৃষি, নৌপরিবহন, মৎস্য ও পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলে। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদি ও ন্যায্য পানি ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছে ঢাকা।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার মানসিকতা থাকলে পানি নিয়ে জটিল বিষয়গুলোর বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান সম্ভব। বাংলাদেশের অবস্থান হলো—আলোচনা, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে এমন একটি সমাধানে পৌঁছানো, যাতে দুই দেশের স্বার্থই বিবেচনায় থাকে এবং বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন