কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করা নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নারী চিকিৎসককে ‘ম্যাডাম’ এবং পুরুষ চিকিৎসককে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন না করলে রোগীদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা চলছে।
রোগীদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষজনের বড় অংশই বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির। তাঁদের কেউ চিকিৎসকের পদবি বা প্রচলিত সম্বোধনের ধরন সম্পর্কে অবগত নাও থাকতে পারেন। এ কারণে কোনো রোগী বা স্বজন ‘আপু’, ‘ভাই’, ‘ডাক্তার’ কিংবা অন্য কোনো ভদ্র সম্বোধন ব্যবহার করলে তাঁকে হেনস্তা বা সেবা থেকে বঞ্চিত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত।
সম্প্রতি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ঘিরে ‘স্যার-ম্যাডাম’ সম্বোধন নিয়ে রোগীদের ক্ষোভের কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে চিকিৎসকদের সম্বোধনের ধরন নিয়ে রোগী ও স্বজনদের অসন্তোষের কথা তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করা নিয়ে এর আগেও বিতর্ক হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলতেই হবে—এমন কোনো রীতি নেই।
‘স্যার-ম্যাডাম’ সম্বোধন নিয়ে নাগরিক ভোগান্তির অভিযোগ কুমিল্লাতেও নতুন নয়। ২০২১ সালে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে এক ব্যবসায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করায় তাঁকে নিয়ে বিরূপ আচরণের অভিযোগ সংবাদে আসে। ঘটনাটি তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মূল উদ্দেশ্য রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া। রোগী কীভাবে চিকিৎসককে সম্বোধন করছেন, তার চেয়ে তিনি ভদ্র ও সম্মানজনকভাবে কথা বলছেন কি না—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্ক হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও পেশাগত আচরণের ভিত্তিতে।
চিকিৎসকেরা অবশ্যই সম্মান পাওয়ার অধিকারী। একইভাবে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষও মর্যাদাপূর্ণ আচরণ পাওয়ার অধিকার রাখেন। সম্বোধনকে কেন্দ্র করে কোনো রোগীকে হয়রানি, অপমান কিংবা চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে হলে তা জনস্বাস্থ্যসেবার পরিবেশের জন্য নেতিবাচক বার্তা দেয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও কার্যকর নজরদারি থাকলে রোগী ও চিকিৎসক—উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি হাসপাতালের সেবাকে কেন্দ্র করে যেন পদমর্যাদা বা সম্বোধনের পরিবর্তে রোগীর প্রয়োজনই অগ্রাধিকার পায়, সেটিই প্রত্যাশা।
✍️ মন্তব্য লিখুন