কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় স্ত্রী কর্তৃক পাঠানো তালাকের নোটিশের প্রতিশোধ নিতে শ্বশুরকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিলেন এক যুবক। তবে পুলিশের তৎপরতা ও সন্দেহের কারণে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। উল্টো নিজেই গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে আছেন তিনি।
গ্রেপ্তার হওয়া হাবিবুল ইসলাম ঠান্টু (৩২) উপজেলার মাঝিহাট গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক বছর আগে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের কুন্টিরচর গ্রামের ফারুক হোসেনের মেয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত থাকায় পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে তাঁর স্ত্রী তালাকের নোটিশ পাঠান, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ঠান্টু।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে রোববার রাতে ঠান্টু শ্বশুরবাড়ির বারান্দার গ্রিল কেটে ভেতরে ২৮টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট রেখে আসেন। এরপর তিনি নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে শ্বশুরবাড়িতে মাদক মজুত থাকার তথ্য দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে।
তবে অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্যের নির্ভুলতা ও মাদকের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা পুলিশের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করে। পরে ফারুক হোসেনের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, সম্প্রতি তাঁর মেয়ে স্বামীকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও ফারুক হোসেনকে একজন নিরীহ ও সৎ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এরপর পুলিশ হাবিবুল ইসলাম ঠান্টুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি শ্বশুরকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে মাদক রেখে আসার কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছে। আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, “আসামি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। পারিবারিক কলহ ও তালাকের নোটিশের জেরে তিনি শ্বশুরকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন। পুলিশের তদন্তে বিষয়টি উদঘাটিত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
✍️ মন্তব্য লিখুন