ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের পরিবারের জন্য পাওয়া সরকারি অনুদানের অর্থ ব্যবহার করে তাঁর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন—এমন অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত বাবা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি নিজের উপার্জনের অর্থেই বিয়ে করেছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশসন গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল মতিন (৫০) রাজধানীর মতিঝিলে একটি প্রতিষ্ঠানে সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। তাঁর স্ত্রী মমতাজ বেগমের সঙ্গে দীর্ঘ ২২ বছরের সংসারজীবনে একমাত্র ছেলে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হন। তাদের আরও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২৯ মে শহীদ পরিবারের জন্য পাওয়া সরকারি অনুদানের অর্থ থেকে ৭ লাখ টাকার কাবিন এবং প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আব্দুল মতিন। এ ঘটনায় পরিবারের মধ্যে চরম বিরোধ দেখা দেয় এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন শহীদের মা মমতাজ বেগম।
মমতাজ বেগম দাবি করেন, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে তিনি কোনো সম্মতি দেননি। তাঁর ভাষ্য, একমাত্র সন্তানকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই স্বামী সরকারি অনুদানের অর্থ ব্যবহার করে নতুন সংসার শুরু করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শহীদ পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ উত্তোলনে তাঁর স্বাক্ষর জাল করার চেষ্টাও হয়েছিল।
অন্যদিকে, মোহাম্মদ আব্দুল মতিন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, বংশ রক্ষার স্বার্থে এবং পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তাঁর দাবি, প্রথম স্ত্রী শুরুতে এতে সম্মতি দিয়েছিলেন এবং বিয়ের ব্যয়ভার তিনি নিজের চাকরির আয়ের মাধ্যমেই বহন করেছেন। শহীদ ছেলের অনুদানের অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জুলাই আন্দোলনের স্থানীয় সমন্বয়ক ও ছাত্রনেতারা বলেছেন, আইন ও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ হলেও একজন শহীদের পরিবারের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত পারিবারিক সমঝোতা ও সামাজিক সংবেদনশীলতার সঙ্গে নেওয়া উচিত ছিল, যাতে শহীদ পরিবারের মর্যাদা ও সম্মান ক্ষুণ্ন না হয়।
উল্লেখ্য, শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ গোলচত্বরে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন। পরে ২০ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও সঞ্চয়পত্র প্রদান করা হয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন