নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দেশকে জুয়া ও মাদকমুক্ত করতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, কেবল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়; বরং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই ধ্বংস করে না, বরং পরিবার, সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতির ওপরও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে মাদক গ্রহণ করেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
তিনি বলেন, মাদক পাচারকারী চক্র এখন প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এনক্রিপটেড যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে তারা বিশেষ করে তরুণদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। এ বাস্তবতায় মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ও আধুনিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করা হতে পারে। তাঁর মতে, আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুরোনো আইন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সময়োপযোগী ও কার্যকর আইনগত কাঠামো।
তিনি আরও বলেন, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে একাধিক মানি লন্ডারিং মামলাও দায়ের করেছে। একই সঙ্গে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে বিলবোর্ড, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সভার বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন