ঢাকা, ৪ মে ২০২৬
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেল আগামী জুলাই থেকে আংশিকভাবে বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। এ লক্ষ্যে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রথম ধাপে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার—এমন তথ্য জানা গেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে।
তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পে স্কেল বাস্তবায়নের একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এটি তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রথম ধাপ (২০২৬–২৭): মূল বেতনের প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি
দ্বিতীয় ধাপ (পরবর্তী অর্থবছর): অবশিষ্ট বেতন সমন্বয়
তৃতীয় ধাপ (২০২৮–২৯): বিভিন্ন ভাতা (চিকিৎসা, অন্যান্য) বৃদ্ধি
সরকারি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে আগামী ১ জুলাই থেকে এর আংশিক কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব
প্রস্তাবিত কাঠামোতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
সর্বনিম্ন বেতন: ৮,২৫০ টাকা → ২০,০০০ টাকা
সর্বোচ্চ বেতন: ৭৮,০০০ টাকা → ১,৬০,০০০ টাকা
গ্রেড সংখ্যা: আগের মতো ২০টি
বেতন অনুপাত (সর্বনিম্ন:সর্বোচ্চ): ১:৮ (আগে ছিল ১:৯.৪)
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের (সচিব, সিনিয়র সচিব প্রভৃতি) জন্য বিদ্যমান গ্রেডের বাইরে পৃথক বেতন কাঠামোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ
বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুপারিশ ও কমিটির ভূমিকা
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত বেতন কমিশন চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকারের কাছে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ জমা দেয়। পরবর্তীতে তিনটি পৃথক বেতন কমিশনের সুপারিশ সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়, যারা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো বাকি
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি এখনো পর্যবেক্ষণাধীন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের বিষয়টি নীতিগতভাবে বিবেচনায় রয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন