ঢাকা, ২৬ এপ্রিল ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা, বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য নতুন করে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ খাদ্য সংকটে পড়তে পারে।
সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা
ডয়েচে ভেলে-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলো—সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন ও সৌদি আরব—খাদ্য আমদানির জন্য এই প্রণালির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। একইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী সারের বড় একটি অংশও এ অঞ্চল থেকে সরবরাহ হয়।
যুদ্ধের কারণে নৌপরিবহন ব্যাহত হওয়ায়—
তেল ও সারের দাম দ্রুত বাড়ছে
কৃষিতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে
বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে
বিশেষ করে কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লাখ লাখ টন সারের জোগান কমে গেছে।
খাদ্য উৎপাদনে শঙ্কা
বিশ্বব্যাপী কৃষি উৎপাদন অনেকাংশেই নির্ভর করে ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ও ফসফেটের মতো সারের ওপর। সরবরাহ ব্যাহত হলে—
কৃষক কম সার ব্যবহার করবেন
ফসলের ফলন কমে যাবে
বাজারে খাদ্যের ঘাটতি তৈরি হবে
বিশ্বব্যাংক-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত আরও লাখ লাখ মানুষকে ক্ষুধার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, সংঘাত যদি চলমান থাকে, তবে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ চরম খাদ্য সংকটে পড়তে পারে।
অন্যদিকে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা সতর্ক করেছে, দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থায় “বিপর্যয়” ডেকে আনতে পারে। ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, সোমালিয়া ও সুদানের মতো দেশ।
মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এখনও পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়
বর্তমানে খাদ্যমূল্য তুলনামূলক কম হারে বাড়লেও (গত মাসে প্রায় ২.৪%), বিশ্লেষকরা বলছেন—
যুদ্ধের প্রভাব দেরিতে দৃশ্যমান হয়
আগের উৎপাদিত খাদ্য এখনো বাজারে আছে
কয়েক মাস পর প্রকৃত সংকট শুরু হতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, দরিদ্র দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কারণ সেখানে মানুষের আয়ের বড় অংশ খাদ্যের পেছনে ব্যয় হয়।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
পরিস্থিতির তীব্রতা অনেকটাই নির্ভর করছে—
হরমুজ প্রণালি কতদিন বন্ধ বা সীমিত থাকে
জ্বালানি ও সারের দাম কতটা বাড়ে
দেশগুলো রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কিনা
যদিও কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করেন, বৈশ্বিক কৃষি ব্যবস্থার অভিযোজন ক্ষমতা থাকায় বড় ধাক্কা সামাল দেওয়া সম্ভব, তবুও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হলে খাদ্য সংকট এড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।
✍️ মন্তব্য লিখুন