ঢাকা, ২০ মার্চ ২০২৬:
ঈদুল ফিতরের আনন্দ তখনই পরিপূর্ণ হয়, যখন তা সমাজের সব মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়—এমন মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তিনি বলেন, ঈদ কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি সমতা, সহমর্মিতা, সংযম এবং সামাজিক সম্প্রীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের ‘ঈদের গল্প’ আয়োজনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাবি ভিসি বলেন, ঈদের প্রকৃত শিক্ষা হলো সমাজে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করার মানসিকতা গড়ে তোলা। তাঁর ভাষায়, সমাজের দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের কথা শুধু উৎসবের সময় নয়, বছরের প্রতিটি দিনই মনে রাখা প্রয়োজন।
উপাচার্য বলেন, ছোটবেলার ঈদ ছিল নির্মল আনন্দে ভরা। ঈদের নামাজ শেষে বাজার থেকে খেলনা কেনা, সেগুলো যত্ন করে রেখে দেওয়া—এসব স্মৃতি এখনও তাঁকে নাড়া দেয়। শৈশবের এক ঈদে খেলনা তুলতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও তাঁর স্মৃতিতে আজও অমলিন। সেই অভিজ্ঞতার মধ্যেও তিনি খুঁজে পান পারিবারিক স্নেহ, নিরাপত্তা এবং শৈশবের সরল আনন্দ।
পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের প্রসঙ্গে অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, শৈশব ও কৈশোরের বড় একটি সময় হোস্টেলে কাটানোর কারণে ঈদের ছুটি মানেই ছিল বাড়ি ফেরা, মা-বাবার কাছে যাওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। তাঁর মতে, ঈদের সবচেয়ে বড় আবেগের জায়গা এখনো পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও আপনজনদের ঘিরেই।
তিনি মনে করেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদের অনুভূতিতে পরিবর্তন আসে। ছোটবেলায় ঈদের আনন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধরা দিলেও বড় হওয়ার পর সেই আনন্দকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে হয়। এখন তাঁর কাছে ঈদের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগ, যা সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
সালামি প্রসঙ্গে জাবি ভিসি বলেন, ছোটবেলায় সালামি পাওয়ার আনন্দ থাকলেও বড় হয়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন—কাউকে কিছু দিতে পারার আনন্দ আরও গভীর। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যের মুখে হাসি ফোটানোই ঈদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে তিনি মনে করেন।
ঈদের সকালকে নিজের কাছে সবচেয়ে বিশেষ মুহূর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের সকাল এমন এক অনুভূতি তৈরি করে, যেখানে ইবাদত সম্পন্ন করার তৃপ্তি এবং উৎসবের আনন্দ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। তাঁর মতে, রমজান মানুষকে যে সংযমের শিক্ষা দেয়, তা কেবল একটি মাসে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর জীবনে ধারণ করা উচিত।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, রমজানের সংযম, নৈতিকতা ও ভালো কাজের চর্চা যদি বছরের বাকি সময়েও ধরে রাখা যায়, তবে তা ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের জন্যই কল্যাণকর হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীরা জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চায় নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করবে।
ঈদের সামাজিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ঈদের নামাজে ধনী-গরিব সবাই এক কাতারে দাঁড়ায়—এই দৃশ্যই ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীক। তিনি বলেন, বাস্তব জীবনেও যদি এই চেতনা প্রতিফলিত হয়, তবে সমাজের বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, ঈদের আনন্দ ব্যক্তিগত ভোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে তার পূর্ণতা আসে না; বরং তা সমাজের সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই ঈদের আসল সৌন্দর্য। তাঁর এই বক্তব্যে ঈদের ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও নতুনভাবে সামনে এসেছে।
প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন